ঢাকা, সোমবার ২৭ মার্চ ২০২৩, ১০:৫৪ অপরাহ্ন
স্বাধীন দেশে সাংবাদিকতা বিকাশের অন্তরায় বাংলা ভিশন
এনবিএস ওয়েবডেস্ক

স্বাধীন দেশে সাংবাদিকতা বিকাশের অন্তরায় বাংলা ভিশন

।। মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার।।

বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমের চরম উৎকর্ষ ও ভূমিকার কারণে আমরা অনেক বেশি গণমাধ্যমমূখি হয়ে পড়েছি ।  ফলে আমরা প্রতিনিয়ত গণমাধ্যমের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছি। গণমাধ্যম বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষকে অবগত রাখে। মুহুর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা মানুষকে জানিয়ে দিচ্ছে। মানুষ ও সমাজের ওপর গণমাধ্যমের প্রভাব এত বেশি যে গণমাধ্যম চাইলেই মানুষের কোনো বিষয় ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে পারে।

আবার নেতিবাচকভাবে ও দেখতে পারে । মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরাকের ওপর হামলা চালায় তখন পশ্চিমা গণমাধ্যম প্রচার করে ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে । আর তা বিশ্বের জনমত গড়ে ওঠে। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় গণমাধ্যমের এই প্রচারণা ভূল ছিল। গণমাধ্যম মানুষের মধ্যে গণজাগরণ তুলতে পারে। আবার গণমাধ্যম ভূল ও বিকৃত তথ্য দিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারে। খুব সামান্য একটি বিষয়কে ও গণমাধ্যম তার উপস্থাপনের মাধ্যমে বড় করে তুলতে পারে।

বাংলাদেশে গণমাধ্যম ব্যবস্থা :
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করলেও এদেশের সংবাদমাধ্যম স্বাধীন হতে পারেনি। ১৯৭৩ সালে মূদ্রণ ও প্রকাশনা আইন এবং ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করে। ১৯৯১ সালে আইন সংশোধন করা হলেও গণমাধ্যম ব্যবস্থা সুরক্ষিত হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক কিংবা স্বৈরতান্ত্রিক উভয় শাসনামলেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সরকারি নিয়ন্ত্রণেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রত্যেক সরকারই বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।  ২০০০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে অভূতপূর্ব গণমাধ্যম বিপ্লব ঘটেছে। এখন ঘোষণাপ্রাপ্ত পত্রিকার সংখ্যা প্রায় ১৫৯৭টি। বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে তিন ডজনেরও বেশি। বেসরকারি রেডিও এখন এক ডজনেরও বেশি। এছাড়া গড়ে উঠেছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম। কিন্তু এসবের লাইসেন্স দেয়ার ক্ষেত্রে নেই কোনো স্বচ্ছতা। কালো টাকার মালিক, ভূমিদস্যু, অসাধু ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এসবের মালিক । ফলে গণমাধ্যমে জনস্বার্থ নয় ব্যক্তি স্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। গণমাধ্যমগুলোতে সংখ্যালঘু, নারী, বহুত্ববাদী গোষ্ঠীরা থেকে গেছে উপেক্ষিত।

আমাদের গণমাধ্যমগুলোর সততা, বস্তুনিষ্ঠতা, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাই সার্বিকভাবে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যবস্থা হতাশাজনক।

বাকস্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও গণমাধ্যমঃ
গণমাধ্যম মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে। গণমাধ্যম যখন স্বাধীনভাবে চলে, বাকস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, জনগণের হয়ে কথা বলতে পারে তখন স্বভাবতই সেখানে গণতন্ত্র আছে বলে ধরে নেয়া যায়। তাই গণমাধ্যমকে বলা হয় গণতান্ত্রের পূর্বশর্ত।  গণমাধ্যম গণতন্ত্রকে সুসংহত করে। আর স্বাধীন গণমাধ্যম গণতান্ত্রেরই বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা রয়েছে। গণমাধ্যম মানুষকে মত প্রকাশের জায়গা তৈরি করে দেয়। এ ছাড়া ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী ও অন্যান্য রাজনৈতিক ব্যত্তিত্ব এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ড __ কে গণমাধ্যম সকলের সামনে নিয়ে আসে।  এতে করে জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হয় প্রত্যেককেই। তাই তাদেরকে দেশ ও দশের কথা ভাবতে হয়। এর ফলে গণতান্ত্রের ভিত্তিও পাকাপোক্ত হয়।

"দৃষ্টি জুড়ে দেশ" শ্লোগানে এগিয়ে চলা গণমানুষের টেলিভিশন জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশনের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ।  ১৬ পেরিয়ে এখন ১৭ বছরের এক টগবগে যুবকের মতো উদ্দীপ্ত যৌবনের এ অগ্রযাত্রায় দেশবাসীর অপরসীম ভালবাসার সারথী হয়ে বাংলাভিশন ধরে রেখেছে নিজস্ব  স্বকীয়তা। আকাশ সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতার অস্থির বাজারেও বাংলাভিশন নিরপেক্ষতার অনন্য এক নাম। তাইতো দেশ বিদেশে নানা শ্রেণী- পেশার মানুষের হৃদয়ের আসনেও বরাবরই সেরা গণমাধ্যমের নাম- বাংলাভিশন।

প্রচারণার হাতিয়ার গণমাধ্যম :
যদিও গণমাধ্যমের নিজস্ব কর্মপদ্ধতি, নীতি ও বাকস্বাধীনতা অধিকার রয়েছে তবুও বেশির ভাগ সময়ই গণমাধ্যম ব্যবহৃত হয় শাসক শ্রেণির প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে। এর সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো আমাদের বাংলাদেশ টেলিভিশন। প্রতিটি সরকারই একে ব্যবহার করেছে নিজেদের প্রচারণা আর মতাদর্শ ছড়িয়ে দেয়ার হাতিয়ার হিসেবে। এমনকি সরকার বদলের সাথে সাথেই এর কর্মকর্তা, কর্মচারী, কলা _ কূশলী এমনকি সংবাদ পাঠক পাঠিকারাও বদলে যায়। শাসক শ্রেণি নিজেদের অন্যায়, অবিচার, শোষণ থেকে জনগণের চোখ ফেরাতে গণমাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে। নিজেদের গুণগান ও উন্নয়নের চমক দিয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করতে গণমাধ্যমগুলোকে বাধ্য করে। ফলে গণমাধ্যম সরকারের নিয়ন্ত্রণে থেকে হয়ে ওঠে সরকারি প্রচারণার গণমাধ্যম।

পরিশেষে জনপ্রিয় গণমাধ্যম চ্যানেল বাংলাভিশনের পরিবারের সকলকে আন্তরিক অভিনন্দনও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি । সেই সাথে চ্যানেলের সকল শুভাকাঙ্ক্ষী দর্শক শ্রোতাদেরকে অভিনন্দন জানাচ্ছি । জয় হোক জনপ্রিয় চ্যানেল বাংলাভিশন সেই শুভকামনা রইল ।

এছাড়াও আরও শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি আমার নিউজ পোর্টাল বাংলা পোস্ট-, দৈনিক নয়াদেশ ,- সৃজনশীল স্বনামধন্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দি ইউনিভার্সেল একাডেমী ও জাতীয় জনতা ফোরাম কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন ।

ইউটিউবে এনবিএস-এর সব খবর দেখুন। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের চ্যানেলটি: